একটু দুরেই বাঁধা পড়ে দৃষ্টি । তারপর আবার
কুয়াশা । গাঢ় , সাদা কুয়াশা ।
.
হ র র র . . হট . . হট . .
দশটি রুগ্ন পা একসাথে একই ছন্দে চলছে ।
সেই সাথে চলছে রূপালী লাঙল ,
চলছে জীবনের লাঙল . . . .
গরু দুটোর স্বাস্থ্যের অবস্থা খুব খারাপ ,
যতটা ওদের মালিকের । কেমন ঠকঠক
করে কাঁপছে ওরা , যেমনটা কাঁপছে ওদের
মালিকও । ওদের গায়ে যেমন কোন কাপড়
নেই , তেমনি ওদের মালিকের শরীরও প্রায়
পুরোটাই খালি ।
পরনে একটা ছেড়া গামছা চাড়া আর কিছুই
নেই ।
.
কলিম শেখের সম্বল বলতে এই দুটো গাই গরু ,
আর এক টুকরো আবাদি জমি । মাঝেমাঝে গরু
দুটোর জন্য তার খুব মন খারাপ হয় । গরু
দুটোর জীর্নশীর্ন শরীর দেখলে খুব
মায়া লাগে । কলিম শেখের ধারনা তার
শরীর দেখে গরু দুটোরও হয়ত মন খারাপ হয় ,
মায়া হয় । মুখে হয়ত ওরা কিছুই
বলতে পারে না , কিন্তু মাঝেমাঝে কেমন
যেন মলিন দৃষ্টিতে তার
দিকে তাকিয়ে থাকে ওরা !
.
কিরে ! গায়ে জোর নাই ! খাড়াইলি কেন ?
চল চল , টান লাগা . .
হ র র র . . হট . . হট . .
কলিম শেখ গরু দুটোর সাথে অনবরত
কথা বলে যাচ্ছে , আর গরু দুটো হাল
টেনে চলেছে বিরামহীন । লাঙলের পলায়
জমির বুক চিড়ে খন্ড বিখন্ড হয়ে যাচ্ছে ।
কলিম শেখ বড় বড় চোখ
করে তাকিয়ে আছে খন্ডিত মাটির
টুকরোগুলোর দিকে । এ যেন মাটি নয় , এক
এক টুকরো স্বপ্ন ।
ধোঁয়াতোলা ধবধবে সাদা ভাতের
স্বপ্ন . . . .
.
কলিম শেখের দুই ছেলে , দুই মেয়ে ।
ছেলে দুটো বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে ।
আর মেয়ে দুটোরও বিয়ে হয়ে গেছে সেই
কবে ।
.
অনেক , অনেকদিন আগে বাবা রজব শেখ
কলিমের হাতে তুলে দিয়েছিলেন এই লাঙল-
জোয়াল । তখন কলিমের বয়স বার কি তের
হবে । দীর্ঘ এতগুলো বছর কলিম শেখ সেই
লাঙ্গল-জোয়ালের ভার বহন করে চলেছেন ।
জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসেও এতটুকু
বিশ্রাম নেই , এতটুকু ক্লান্তি নেই ।
ক্লান্তি হয়ত আছে , কিন্তু
সেটা মেনে নিতে তিনি একেবারেই নারাজ
। তাইতো আজও শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন
জীবনলাঙলের হাতল . . . .
.
ছেলে-মেয়েরা চেড়ে গেলে কি হবে , একজন
কিন্তু এখনো চেড়ে যায় নি কলিম শেখকে ।
যাকে তিনি পষ্ণাশ বছর আগে পেয়েছিলেন
কোন এক ঝড়ের রাতে । সেই রাতের
কথা কলিম শেখের স্মৃতিতে আজও উজ্জল ,
যেন এই সেদিনের কথা . . . .
.
কলিম শেখের বয়স তখন সতের কি আঠারো ।
কি যেন এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন রজব
শেখ । বাঁচার কোন আশা নেই আর । একদিন
রাতে তিনি সবাইকে ডেকে বললেন , আজ
রাতেই তার সময় শেষ । মৃত্যুর

No comments:
Post a Comment